বর্ষার শেষ। বিকেলের আলো পড়ে এসেছে। ধানখেতের ধারে ছোট একটা খাল, পানি প্রায় নড়ছে না। তুমি পাড়ে উবু হয়ে বসেছ। হঠাৎ পানির নিচে কী যেন ঝিলিক দিয়ে গেল। একটা না, অনেকগুলো। গায়ের রং রুপালি, তার ওপর হালকা লালচে ছোপ। কেউ যেন আঙুলে সিঁদুর নিয়ে ছুঁয়ে গেছে।গ্রামের লোকে এদের বলে সিঁদুরপুঁটিতবে এটা আলাদা কোনো মাছ নয়। আসলে এ হলো আমাদের চেনা জাত পুঁটি। বিজ্ঞানীরা একে বলেন Puntius sophore। সারা বছর এর গা থাকে রুপালি।
বর্ষার সময় প্রজননের মৌসুমে গায়ে লাল দাগ ফোটে। তখনই মানুষ নাম দিয়ে ফেলে সিঁদুরপুঁটি। একই মাছ, শুধু সাজ বদলেছে। ছোটবেলায় গামছা দিয়ে খালে মাছ ধরেছ কখনো? তাহলে এই মাছ হয়তো তোমার হাতেও উঠেছে, নামটা শুধু জানা হয়নি।মাছটা খুব ছোট। বড়জোর ৮-১০ সেন্টিমিটার লম্বা। শরীর একটু চ্যাপটা, আঁশে আলো পড়লে চকচক করে। পিঠের পাখনায় একটা কালচে ছোপ থাকে।
অন্য ছোট মাছের সঙ্গে গুলিয়ে ফেললে ওই ছোপটা খুঁজো।মৌসুম বদলালে মাছের চেহারাও বদলায়।
সূত্র: প্রথম আলো