প্রকাশিত: ৩১ জানুয়ারী, ২০২৬, ১২:৩৪ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
বোরহানউদ্দিন প্রতিনিধি: ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনী প্রচারণাকালে বিএনপি কর্মীদের বিরুদ্ধে অতর্কিত হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ১৩ জন আহত হয়েছেন। জামায়াতের ৮ জন এবং বিএনপির ৫ জন আহত হওয়ার দাবি করা হয়েছে।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) সকাল ৮টার দিকে উপজেলার টবগী ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের চৌকিদার বাড়ির দরজার সামনে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকালে জামায়াতের নেতাকর্মীরা তাঁদের নির্বাচনী প্রতীক ‘দাঁড়িপাল্লা’র পক্ষে প্রচারণা শুরু করেন। প্রচারণা দলটি টবগী ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে চৌকিদার বাড়ি এলাকায় পৌঁছালে সেখানে উপস্থিত বিএনপির কর্মীরা তাঁদের বাধা দেয়। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
অভিযোগ রয়েছে, একপর্যায়ে বিএনপি কর্মীরা কোদাল, লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়।
হামলায় জামায়াতের টবগী ইউনিয়ন আমির আব্দুল হালিম, মো. ফয়জুল্লাহ, মো. ইমন, মো. শাহে আলম, মো. রায়হান, মো. শামীম ও মো. তানজিলসহ একাধিক নেতাকর্মী আহত হন। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে বোরহানউদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট কাজী মো. আজম বলেন, “জামায়াতের নেতাকর্মীরা পরিকল্পিতভাবে বিএনপির সমর্থকদের বাড়িতে গিয়ে হুমকি দিয়ে ভোট চাইলে আমাদের সমর্থকরা প্রতিবাদ জানায়। এ সময় জামায়াত কর্মীরা ঘরবাড়ি ভাঙচুর করে।”
অন্যদিকে জামায়াত নেতা মাওলানা আব্দুল হালিম সাংবাদিকদের বলেন, “নির্বাচনী সময়ে সবাই শান্তিপূর্ণভাবে প্রচারণা চালাবে—এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু একের পর এক বিএনপির নগ্ন হামলা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। বরং বিএনপি নিজেরাই হামলা চালিয়ে নিজেদের ঘর ভেঙে নাটক সাজানোর চেষ্টা করছে।”
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে বোরহানউদ্দিন থানা পুলিশ ও নৌবাহিনীর একটি টিম পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকাজুড়ে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।
এ বিষয়ে বোরহানউদ্দিন থানার তদন্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) রিপন কুমার সাহা বলেন, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেছে। এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
মন্তব্য করুন